রুটি কাটার মেশিন: যা বদলে দিয়েছিলো বেকারি শিল্পকে

১৯২৮ সালের ৬ই জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে মিসৌরির চিলিকোথে প্রথম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাটা রুটি উৎপাদিত হয়। রুটি কাটার মেশিনটি আবিষ্কার করেছিলেন আটো রোহউদার, যিনি পেশায় একজন জহুরি ছিলেন। রুটি কাটার মেশিন তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে সফলও হন। কিন্তু ১৯১৭ সালের একটি অগ্নিকান্ডে রোহউদারের প্রোটোটাইপ এবং ব্লুপ্রিন্টগুলি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯২৮ সালে তিনি পুনরায় মেশিনটি তৈরি করেন। এবারে মেশিনটিতে সংযোজন করেন বিদ্যুত ব্যবহারের সুবিধা এবং একাধিক ব্লেড। ফলে মেশিনটি বেশ সুন্দরভাবে কাজ করতে থাকে। মেশিন তৈরির সুবাদে তাকে তার বন্ধু ফ্রাঙ্ক নিজের বেকিং কারখানায় নিযুক্ত করেন। এই অদ্ভুত আবিষ্কার নিয়ে ৬ই জুলাই ১৯২৮ সালে চিলিকোথ গেজেট পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদনও হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয় যে, কিছু মানুষ এই কাটা রুটি দেখে বিস্ময়কর মনে করলেও সাধারণ গৃহিনীদের কাছে এটি বিশেষ সাড়া পাবে। কারণ, মেশিনটির মত সুন্দর, সমতল এবং একই আকৃতির কাটা রুটির টুকরো কেউ ছুরি দিয়ে হাতে কেটেও পাবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিটি রুটির টুকরোর জন্য একটি সঠিক মাপ রয়েছে যা আধা ইঞ্চি থেকে সামান্য কম। কাটা টুকরো রুটি যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেয়নি। ১৯৩০ সালের মধ্যে এটি দেশের বেশিরভাগ শহরে পাওয়া যেতে শুরু করে। বেশিরভাগ আমেরিকান বাণিজ্যিকভাবে তৈরি রুটি খাওয়া শুরু করেন। এতে ঘরে তৈরিকৃত রুটির সরবরাহ কমে আসে। কারখানায় উৎপাদিত রুটিগুলি বাড়িতে বা ছোট স্থানীয় বেকারিগুলোতে পাওয়া রুটির তুলনায় নরম করে তৈরি করা হতো। কারণ জনগণ “হোয়াইট ব্রেড” এর স্বাদ অনুসারে নরম এবং কোমল রুটি খেতে পছন্দ করতো।


কাটা টুকরো রুটি বিক্রয়ের প্রধান ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে ওয়ান্ডার ছিল অন্যতম। ১৯৩০ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। ওয়ান্ডার ব্রেড মূলত ১৯২২ সালে ইন্ডিয়ানাপলিসে বিভিন্ন স্টোরে রুটি বিক্রয় শুরু করেছিল। সে সময় রুটিগুলো তৈরি হতো ট্যাগগার্ট বেকিং কোম্পানিতে। ইন্ডিয়ানাপলিস স্পিডওয়েতে একজন এক্সিকিউটিভ আন্তর্জাতিক বেলুন প্রতিযোগিতা দেখার সময় এই রুটির প্রেমে পড়ে যায় এবং এর নাম রাখে ওয়ান্ডার। ১৯২৫ সালে কন্টিনেন্টাল বেকিং কোম্পানিটি ট্যাগগার্ট কেনার পরে ওয়ান্ডার জাতীয়ভাবে বিক্রি হয়েছিল। এতে, এর জনপ্রিয়তা আরো দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ওয়ান্ডার সহ বিভিন্ন কাটা রুটির ফ্যাক্টরি সাময়িকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়াসে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারণ এর নমনীয়তা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি টুকরোর ভাজে কাগজ ব্যবহার করে এটিকে কাগজে মোড়ানো হত। কাগজের খরচ বাঁচাতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১২ সালে, ওয়ান্ডার ব্রেডের তৎকালীন মালিক হোস্টেস ব্র্যান্ডস (যা অন্যান্য বিখ্যাত স্ন্যাকগুলোর মধ্যে টুইঙ্কি এবং ডিং ডংও তৈরি করেছিলো) বিভিন্ন স্টোরে সম্পূর্ণ বিক্রি বন্ধ করে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে। সৌভাগ্যক্রমে এই আইকনিক রুটির অনুরাগীদের জন্য ২০১৩ সালে অন্য একটি কোম্পানি এগিয়ে আসে এবং ওয়ান্ডার ব্র্যান্ডটি পুনরায় চালু করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সমসাময়িক যেকোন বিষয়ে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও

Latest Articles

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম পরিচিতি

একটি দেশের স্বাধীন হবার পিছে কত কত ইতিহাসই না থাকে। সেই দেশের জনগনের আত্মত্যাগ, তাদের সমস্ত প্রতিরোধ, তাদের সমস্ত অর্জন। কোন কোন

Read More

মাইকেল ফেল্পস: সাঁতারের জীবন্ত কিংবদন্তী

DC সুপারহিরো অ্যাকুয়াম্যানকে সবাই কম বেশি চেনে। বাস্তব জগতেও কিন্তু আছেন এমনই এক জলের নিচের সুপার হিরো। কারো কাছে তিনি বাল্টিমোরের বুলেট,

Read More

বাংলা দেশ: জর্জ হ্যারিসনের অমর সৃষ্টি

বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের খুব গভীর এক অনুভূতি নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। যার সাথে আর অন্য কোনো অনুভূতির তুলনা চলে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের

Read More

নাসা প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

৬২ বছর আগে, ১৯৫৮ সালের ২৯ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে আমেরিকায় নাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অন্যতম অগ্রপথিক। পৃথিবীতে যতগুলো স্পেস

Read More

Get Chalkboard Contents straight to your email!​