রূপালী পর্দায় বাগস বানি

আমরা যারা কার্টুন নেটওয়ার্ককে সঙ্গী করে বড় হয়েছি, তাদের কাছে “বাগস বানি” অতি পরিচিত এক চেহারা। আসলে পুরো বিশ্বেই, বিশেষ করে এনিমেশন জগতে বাগস বানি অবিস্মরণীয় এক নাম। ১৯৪০ সালের আজকের দিনে ‘A Wild Hare’ নামক মুভি দিয়ে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু। যদিও, বাগস বানি হিসেবে প্রকাশ পাবার পূর্বে হ্যাপি র‍্যাবিট নাম এবং ভিন্ন ডিজাইনে একই আইডিয়া চালাবার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তা অতখানি ব্যবসা সফল হয়নি।

ইঁচড়ে পাকা বুদ্ধি এবং বেপোরয়া কাজকর্ম দিয়ে বাগস সহজেই মন জয় করে নেয় আমেরিকানদের। এনিমেশন জগতে বাগসের তাৎপর্য এতটাই যে একসময় তাকে দেখা হতো আমেরিকার সাংস্কৃতিক চিহ্ন হিসেবে। তার প্রোডাকশন কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রোস একসময় বাগসকে ব্যবহার করেছে তাদের অফিশিয়াল মাসকট হিসেবে, তাই তাদের পুরোনো লোগোতে এখনও বাগসের দেখা পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বাগসের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। কিংম্যান আর্মি এয়ারফিল্ডের অফিসিয়াল মাসকট হিসেবে বেছে নেয়া হয় বাগসকে। সুপার র‍্যাবিট (Super Rabbbit) কার্টুনে, বাগসের পরনে দেখতে পাওয়া যায় ইউএসএ মেরিন করপসের নীল ইউনিফর্ম। ফলস্বরূপ, মেরিন থেকে তাকে অনরারি মেরিন মাস্টার সার্জেন্ট পদবি দেয়া হয়।

বাগসের নামকরণের পিছে একটা মজার ঘটনা রয়েছে। বাগসের উত্তরসূরি, হ্যাপি র‍্যাবিটের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছে বেন ‘বাগস’ হার্ডওয়ে। হ্যাপি র‍্যাবিটের তৃতীয় এনিমেটেড কার্টুন “Here-um Scare-um” তৈরির সময় তার ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। খরগোশের গায়ের সাদা রঙয়ের বদলে ব্যবহার করা হয় ধূসর রঙ। চার্লি থর্নসন, কার্টুনের লিড এনিমেটর, ডিজাইনের মডেল তৈরি করে উপরে নাম দেন, “Bugs’ Bunny”, যেটাকে পরে বদলে খরগোশটির নিজের নাম হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৪০এ টেক্স এভরি পরিচালিত “A Wild Hare” এ বাগসকে নতুন করে সাজানো হয়, এবং বর্তমানে আমরা যাকে দেখি, সেই বাগস জন্ম লাভ করে টেলিভিশনের পর্দায়। তাছাড়া বাগসের নিজস্ব কমিক বুক (১৯৪১-১৯৮৩) এবং কমিক স্ট্রিপও (১৯৪৩-১৯৯০) ছিলো।

২০০২ সালে, টিভি গাইড ম্যাগাজিনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ম্যাগাজিনটি একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে যেখানে তাদের মতে সর্বকালের সেরা পঞ্চাশ কার্টুন ক্যারেক্টারের উল্লেখ করা হয়। ডিজনির মিকি মাউসকে ছাড়িয়ে, বাগস বানি তাদের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে। আমেরিকান টেলিভিশনের গোল্ডেন টাইম তো বটেই, পুরো বিশ্বের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বাগস বানি এক অবিচ্ছেদ্য নাম।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সমসাময়িক যেকোন বিষয়ে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও

Latest Articles

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম পরিচিতি

একটি দেশের স্বাধীন হবার পিছে কত কত ইতিহাসই না থাকে। সেই দেশের জনগনের আত্মত্যাগ, তাদের সমস্ত প্রতিরোধ, তাদের সমস্ত অর্জন। কোন কোন

Read More

মাইকেল ফেল্পস: সাঁতারের জীবন্ত কিংবদন্তী

DC সুপারহিরো অ্যাকুয়াম্যানকে সবাই কম বেশি চেনে। বাস্তব জগতেও কিন্তু আছেন এমনই এক জলের নিচের সুপার হিরো। কারো কাছে তিনি বাল্টিমোরের বুলেট,

Read More

বাংলা দেশ: জর্জ হ্যারিসনের অমর সৃষ্টি

বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের খুব গভীর এক অনুভূতি নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। যার সাথে আর অন্য কোনো অনুভূতির তুলনা চলে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের

Read More

নাসা প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

৬২ বছর আগে, ১৯৫৮ সালের ২৯ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে আমেরিকায় নাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অন্যতম অগ্রপথিক। পৃথিবীতে যতগুলো স্পেস

Read More

Get Chalkboard Contents straight to your email!​