নাসা প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

৬২ বছর আগে, ১৯৫৮ সালের ২৯ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনে আমেরিকায় নাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অন্যতম অগ্রপথিক। পৃথিবীতে যতগুলো স্পেস এজেন্সি রয়েছে তাদের মাঝে সবথেকে বেশি সফলতা অর্জনকারী সংস্থা হলো নাসা৷ নাসাই প্রথম চাঁদে মানুষ প্রেরণ করেছিলো। এমনকি ১৯৫৯ সালে নাসা প্রথমবারের মত কোন মানববাহী মহাকাশযান প্রেরন করেছিলো।

১৯৪৬ সালে ন্যাশনাল এডভাইজার কমিটি ফর এরোনেটিক্স বা এন.এ.সি.এ বেলেক্স-১ এর মত একটি সুপারসনিক রকেটপ্লেন বানানোর পরিকল্পনা করে। ১৯৫০ সালের শুরুর দিকে তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিলো মহাকাশে একটি আর্টিফিশিয়াল স্যাটেলাইট প্রেরণের। তার কিছু বছর পরেই আমেরিকাকে চমকে দিয়ে, ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে স্ফুটনিক-১ নামের স্যাটেলাইট প্রেরণ করে। এই ঘটনা আমেরিকার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় এবং তারা টেকনোলজিকাল লিডারশিপ থেকে দূরে সরে যায়।


আমেরিকার কাছে তখনো ভালো মানের স্যাটেলাইট প্রেরণের কোন পরিকল্পনা না থাকায় এই ঘটনাকে স্ফুটনিক ক্রাইসিস নামের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্রাইসিস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৫৮ সালের ১২ জানুয়ারি এন.এ.সি.এ স্পেস টেকনোলজির জন্য একটি কমিটি গঠন করে যার প্রধান ছিলেন গাইফোর্ড স্টিভার। ১৯৫৮ সকলের ১৪ জানুয়ারি এন.এ.সি.এ পরিচালক ন্যাশনাল রিসোর্স প্রোগ্রাম এন্ড টেকনোলজি নামের এজেন্সি চালুর ঘোষণা দেন। এর বিধিমালায় নির্দিষ্ট ছিলো যে, এই এজেন্সি সব ধরণের বেসামরিক মহাকাশ কার্যকলাপ পরিচালনা করবে এবং সামরিক সব গবেষণা পরিচালনার জন্য একই সালের ফেব্রুয়ারিতে এডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়।


পরবর্তীতে ২৯ জুলাই তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্যাল স্পেস অ্যাক্ট স্বাক্ষর করেন এবং জন্ম হয় নাসার। যা পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে এবং বর্তমানে বিশের সবথেকে বড় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় নাসার ছিলো প্রায় ৮ হাজার কর্মচারী এবং ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট। সাথে ছিলো ৩টি রিসার্চ ল্যাবরেটরি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সমসাময়িক যেকোন বিষয়ে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও

Latest Articles

না ফেরার দেশে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

অভিনেতা,আবৃত্তিকার কিংবা কবি- প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন সেরাদের একজন। সত্যজিৎ রায় তাঁর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন পথের পাঁচালীর অপুকে। সেই সৌমিত্র আমাদের ছেড়ে

Read More

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড : পরম বন্ধুর অমূল্য উপহার

পংক্তি সংখ্যা ১৫২। ধারণ করে আছে বাংলাদেশের অপাংক্তেয় এক আবেগকে। প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের অসামান্য আত্মত্যাগের ইতিহাসকে। পংক্তির পর পংক্তি এক আশ্চর্য অনুভূতিতে

Read More

মোহনবাগান ‘অমর’ একাদশের এফ এ শিল্ড জয়!

স্বদেশী বিপ্লবীরা ভাবতো, কেবল সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই ব্রিটিশরাজের সূর্য অস্তমিত করা সম্ভব। মঙ্গল পাণ্ডে থেকে ক্ষুদিরাম বসু, চন্দ্রশেখর আজাদ থেকে ভগৎ সিং-সকলেই

Read More

অ্যানিমে: বিনোদন জগতের সুবিশাল এক রাজ্য

জাপানিজ এনিমেশন, বা এনিমে শব্দটি আজকাল বেশ পরিচিত আমাদের কাছে। জাপানে যদিও এনিমে মানে সকল প্রকার এনিমেশনই বুঝায়, বাইরের দেশগুলোতে তার ঠিক

Read More

প্রতিচ্ছায়াবাদের রূপকার ক্লদ মোনে

ইম্প্রেশনিজম (Impressionism) শব্দটির আক্ষরিক বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “প্রতিচ্ছায়াবাদ”। চিত্রাঙ্কন জগতে ‘ইম্প্রেশনিজম’ মানে হলো ইঙ্গিতে ছবি আঁকা। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এই ধারার

Read More

Get Chalkboard Contents straight to your email!​