চে গুয়েভারা: বিপ্লবের চির অনির্বাণ শিখা

লাল রং এর তারকা আঁকা কালো ক্যাপ পরতে বর্তমান প্রজন্মের অনেককেই দেখা যায়। যাকে অনুসরণ করে তরুণরা এই ক্যাপ পরে থাকেন, তাঁর নামটিও আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। তিনি আর্জেন্টিনার বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারা। মুখে চুরুট আর রাজসিক হাসির চে গুয়েভারা বিপ্লবের যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, তা আজও বুকে ধারণ করে লক্ষ লক্ষ তরুণ।


১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেন চে, পুরো নাম আরনেস্তো রাফায়েল গুয়েভারা ডি লা সেরনা। ধনী পরিবারে জন্ম নিলেও বিত্তবৈভবের প্রতি টান ছিল না কখনোই৷ চে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ঔষধশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্র অবস্থায় তিনি মোটরবাইক নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন আর দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখতেন। তিনি লক্ষ্য করেন এসব অঞ্চলের নিম্নশ্রেণীর মানুষ প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য আর শোষণের শিকার হচ্ছে। তাদের এই অসহায় জীবন চে কে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এই অভিজ্ঞতাই তিনি লিখেব গেছেন তার বিখ্যাত বই “মোটরসাইকেল ডায়েরিজ” এ।


১৯৫৪ সালে ঔষধশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পর চে সিদ্ধান্ত নেন তার রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে বাস্তবে রূপ দেবার। ল্যাটিন আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে তিনি তাঁর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং এসময় বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার সংস্পর্শেও আসেন। পরবর্তীতে চে’র অভিষেক হয় বামপন্থী রাজনীতিতে। ১৯৫০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর পরিচয় হয় ফিদেল কাস্ট্রোর সাথে৷ মেক্সিকোর অধিকার আদায়ে চে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রোকে সাহায্য করার মাধ্যমে । লাতিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তিনি। ফলে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশূলে পরিণত হতে হয়।


১৯৬৬ সালে চে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বলিভিয়া চলে আসেন এবং আত্মগোপন করার স্বার্থে চুল-দাঁড়ি কামিয়ে ফেলেন। এ সময় তাঁর নেতৃত্বে সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে একটি শক্তিশালী গেরিলা দল গড়ে ওঠে৷ বেশ কিছু সফল আক্রমণের পর চে’র গেরিলা দল মুখোমুখি হয় বলিভিয়ান আর্মির। আমেরিকান মদদপুষ্ট এই বলিভিয়ান আর্মির কাছে চে’র গেরিলা দল পরাজিত হয়। দিনটি ছিলো ১৯৬৭ সালের ৮ই অক্টোবর। পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৯ অক্টোবর বলিভিয়ান আর্মির হাতে নিহত হন চে গুয়েভারা। বিভৎস মানসিকতার বলিভিয়ান আর্মি প্রমাণস্বরূপ চে’র দুহাত কেটে সংরক্ষণ করে এবং গোপনে তাঁর মরদেহ কে মাটিচাপা দেয়।


১৯৯৭ সালে প্রায় তিন দশক পরে চে’র কবরের সন্ধান পাওয়া যায়৷ তাঁর দেহাবশেষ কিউবায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং শেষকৃত্যের পর রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সমসাময়িক যেকোন বিষয়ে লেখা পাঠাতে পারেন আপনিও

Latest Articles

কনক চাঁপা চাকমা: বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের নারী রত্ন

কনক চাঁপা চাকমা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চিত্রকলায় এক বিখ্যাত নাম।  তিনি তাঁর চিত্রকলায় মূলত ফুটিয়ে তোলেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন। তুলে ধরেন

Read More

ইবতিহাজ মোহাম্মদ: অলিম্পিক পদক জয়ী প্রথম মুসলিম নারী ফেন্সার

৪ ডিসেম্বর,১৯৮৫ সাল। স্থান- ম্যাপলউড, নিউ জার্সি। ইউজিন ও ডেনিস দম্পতির কোলজুড়ে এলো তৃতীয় সন্তান, ইবতিহাজ মোহাম্মদ। মুসলমান পরিবারের পরম সান্নিধ্যে, আন্তরিক

Read More

মাওরিঃ হাজার বছরের সভ্যতার ধারক ও বাহক

বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আদিবাসী গোষ্ঠীর একটি হলো ‘মাওরি’। এই আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস নিউজিল্যন্ডে। ২০১৩ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট অনুযায়ী নিউজিল্যন্ডে মাওরি জনগোষ্ঠীর

Read More

ব্রাজিলিয়ান কার্নিভাল: রঙিন মনের ঝলমলে প্রদর্শনী

উৎসব হলো মানুষের চিরচেনা ঐতিহ্যের চাদরে মোড়ানো মন ও প্রাণের মেলবন্ধন। আর প্রদর্শনী তুলে ধরে ধাবমান মুক্ত মনের এক চিলতে আবেগ। আর

Read More

না ফেরার দেশে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

অভিনেতা,আবৃত্তিকার কিংবা কবি- প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন সেরাদের একজন। সত্যজিৎ রায় তাঁর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন পথের পাঁচালীর অপুকে। সেই সৌমিত্র আমাদের ছেড়ে

Read More

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড : পরম বন্ধুর অমূল্য উপহার

পংক্তি সংখ্যা ১৫২। ধারণ করে আছে বাংলাদেশের অপাংক্তেয় এক আবেগকে। প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের অসামান্য আত্মত্যাগের ইতিহাসকে। পংক্তির পর পংক্তি এক আশ্চর্য অনুভূতিতে

Read More

Get Chalkboard Contents straight to your email!​

Skip to content